সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কোন অতীতে!

4 July 2017 :
মিনিট পনেরো আগে পাশের দোকানে গিয়েছিলাম। রাস্তা এখন ফাঁকাই বলা যায়। দরজা বন্ধ করতে যাব খুব নীচু স্বরে অনেক পুরোনো দিনের একটা গানের কলি কানে এল,' আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন/ বুঝি ওই চোখে সাগরের নীল'... কি যে ভাল লাগা হোল! তাকিয়ে দেখি রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে একজন মাঝ বয়সী ভদ্রলোক আপন মনে নীচু গলায় এই গানটা গাইতে গাইতে হেঁটে চলেছেন। সুরের জ্ঞান আমার মতই। একা একা গাওয়া এবং শোনার মত সুর। চেনা যায় গান বলে। প্যান্ট শার্ট পরা ভদ্রলোক বাজারের ব্যগ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।মনের মধ্যে সুরের মূর্ছনা নিয়ে।
কিছুক্ষণ দরজায় দাঁড়িয়ে রইলাম। মন চলে গেল কোন অতীতে! তখন স্কুলে পড়ি। সেই সময়ের গান। হেমন্ত না শ্যামল? পিন্টু নয়, মানবেব্দ্র বা সতীনাথ নয়। ওদের দুজনের মধ্যেই একজন কেউ হবে। ঠিক মনে পড়ছে না। তখন , মানে ১৯৫৮/৫৯ সালে বড়বাজারে 'ক্যালকাটা আইস ডিপো' এবং উত্তর ফটকে ঘটকদের বাড়িতে ফিলিপ্সের রেডিও ছিল। ছাদে এন্টেনা লাগিয়ে চালাতে হোত। আমরা স্কুল পালিয়ে বড়বাজারে গান শুনতে যেতাম । রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুনতাম। তখন ঘোড়ার গাড়ি চলত। অল্প কিছু রিক্সা চলত। মোটর গাড়ি বা মোটর সাইকেল দেখাই যেত না। নিশ্চিন্তে গান শুনতাম শুক্রবার ও বুধবার। সেইসব গানের বেশিরভাগ এখনো আমার মুখস্ত আছে।
আজ ওই অজানা ভদ্রলোকের গলায় সেই সময়ের গানের কলি শুনে এইসব কথা মনে পড়ল। কিসব অসাধারণ গান ছিল!
'পথ হারাব বলেই এবার পথে নেমেছি'/ 'কোনো এক গাঁয়ের বধুর কথা.../' কাজল নদীর জলে'/ 'আমার স্বপ্নে দেখা রাজ কন্যা থাকে'... এরকম কত গানের কলি আজ মনে পড়ছে।
ধন্যবাদ , অচেনা পথিক, আপনাকে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যম বদ প্রিয়ম বদঃ অপ্রিয়ম সত্যম মা বদ

সত্যম বদ প্রিয়ম বদঃ অপ্রিয়ম সত্যম মা বদ ছোটো বয়সে সংস্কৃত ক্লাশে অনুবাদ করেছিলামঃ সত্যম বদ প্রিয়ম বদঃ অপ্রিয়ম সত্যম মা বদ। মনের মধ্যে খটকা এখনো লেগে আছে। সত্য সবসময় 'প্রিয়' হবে এমন কোনো মানে নেই। লোকের মন রাখতে গিয়ে মিথ্যে বা অর্ধ সত্যের চাষ করে যেতে হবে। তারপর আমরা একটা সুস্থ সমাজ চাইব!  মাঝে মাঝেই দেখি আমি হয়তো কোনো বন্ধুর পোষ্টে কিছু মন্তব্য করেছি যা সত্য কিন্তু তার মনঃপূত নয়। কিছুক্ষণ পর দেখি আমার মন্তব্য ডিলিট করে দিয়েছে। আমি হয়তো আর সেখানে কিছু মন্তব্য করব না বা তাকে আনফ্রেন্ড করব না ( তার স্তরে আমি কেন নামবো ?) কিন্ত সত্য কি ডিলিট করা যাবে? একটা তর্ক প্রায় শুনি- আমার সত্য বনা্ম তোমার সত্য। আমার হাসি পায়। সত্যের স্বরূপ তুমি- আমি -স্বাপেক্ষ নয়।

কেমন আছে শহর বর্ধমান ?......( আপাতত শেষ পর্ব)

কেমন আছে শহর বর্ধমান ? ......( আপাতত শেষ পর্ব)  কিভাবে লুপ্তোদ্ধার সম্ভব? না, এই এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠা শহরের লুপ্তোদ্ধার সম্ভব নয়। প্রথমেই এই কথাটা বলে রাখা ভাল। কিছু মেরামত করা সম্ভব। এখনই যদি সদর্থক উদ্যোগ নেওয়া যায় তাহলে এই শহরের শ্রী ও স্বাস্থ কিছু পরিমাণে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে নানাজনের সাথে আলোচনা করে আমার কিছু কথা মনে হয়েছে। এখানে সেই কথাগুলি সংক্ষেপে বলতে চাই। অনেকদিন ধরে নানাসূত্র থেকে আমি কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। আমার অসাবধানতার কারণে আমার ল্যাপটপটি নিশিকুটুম্ব নিয়ে গেছে। আমার সংগৃহীত যাবতীয় তথ্যও সেইসঙ্গে চলে গেছে। ফলে তথ্যসহ কথা বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। আমি গত দুতিনদিন ধরে বর্ধমান মিউনিসিপ্যালিটী ও বর্ধমান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ওয়েবসাইট খুঁজলাম । দরকারী তথ্য পেলাম না। এই দুই সংস্থা আমাদের এই প্রিয় শহরের উন্নতির জন্য কি কি পরিকল্পনা রচনা করেছেন জানতে পারলে সুবিধা হোত। লক্ষ্য করে দেখবেন আমি আমার প্রতিবেদন ও ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক দোষারোপের মধ্যে নিজেকে জড়াই নি। আমি বুঝেছি এই দোষ আমাদের সকলের। ব্যক্তি মানুষের লোভ ও স্বার্থচিন্তা সমানভাবে দায়ী এই শহরের এই বর্তমান অবস্থ...

কেমন আছে শহর বর্ধমান ?......( নয় )

কেমন আছে শহর বর্ধমান ? ......( নয় ) এ শহর কি জতুগৃহ হবে? আমি যখন ‘বর্ধমান সমাচার’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলাম তখন থেকেই মাথায় প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে। এই শহরের সারা অবয়ব জুড়ে “সুপার মার্কেট” তৈরি হতে শুরু করেছে উনিশশো নব্বইয়ের দশক থেকেই। সুপার মার্কেট বলতে যে ঝা চকচকে একটা ছবি মানসচক্ষে ভেসে ওঠে এগুলি তার অত্যন্ত ‘দরিদ্র আত্মীয়’ সংস্করণ । ভেতরে ঢুকে এক রাস্তা থেকে আর এক রাস্তায় ঢুকতে গেলে অবশ্যই ধাক্কা খাবেন উল্টোমুখে আসা অন্য কারো সাথে। নেই আরো কতকিছু। সব থেকে বড় কথা এইসব মার্কেটে আগুণ লাগলে দমকল ঢুকতে পারবে না। যদিবা কোন কৌশলে জলের পাইপ নিয়ে যাওয়া যায় জল কোথায়? আশেপাশের পুকুরগুলি ‘পুকুর চুরি’ হয়ে গেছে। এমন কি বাঁকার পাড়েও যদি বসতি এলাকায় আগুণ লাগে কোনদিন জল পাওয়া যাবে না। সারা শহরটা স্থান বিশেষে খান্ডব বন ও জতুগৃহের রূপ নিয়েছে। # অনেক কথা বলার চেস্টা করলাম। আরো অনেক বেশি কথা বলা হোল না। স্মৃতি নির্ভর লেখার এই এক মুস্কিল। লেখা প্রকাশিত হবার পর মনে হয়,’ আরে এই খানটায় এই তথ্য বাদ গেছে; এখানটা অন্যভাবে লেখা যেত ।‘ না, এখন ভেবে লাভ নেই। দুয়েকটা কথা ব্যক্তিগত কৈফিয়ত হিসাবে বলার...